নিজস্ব প্রতিবেদক, পাথরঘাটা (বরগুনা): আস্থা নিউজ
বরগুনার পাথরঘাটায় মাগরিবের নামাজে ইমামতি করার সময় সিজদত বা রুকুর মুহূর্তে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে শামিম হাওলাদার (৪৫) নামের এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ও পবিত্র অবস্থায় তাঁর এমন প্রয়াণে স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
গত শুক্রবার (২৩ অক্টোবর ২০২৬) সন্ধ্যায় উপজেলার চরদুয়ানী ইউনিয়নের ছোট টেংরা গ্রামের নিজ বাড়ির সামনের মসজিদে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
যেভাবে ঘটেছিল মর্মান্তিক ঘটনা
স্থানীয় সূত্র জানায়, শামিম হাওলাদার প্রতিদিনের মতো নিজ বাড়ির সামনের মসজিদে মাগরিবের নামাজে ইমামতি করছিলেন। জামায়াতের সঙ্গে নামাজ পড়ানোর একপর্যায়ে তিনি হঠাৎ গুরুতর অসুস্থ বোধ করেন এবং মসজিদের মেহরাবেই ঢলে পড়েন। তাৎক্ষণিকভাবে মুসল্লিরা তাঁকে উদ্ধার করার চেষ্টা করলেও মুহূর্তের মধ্যেই তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
পরিবার ও জীবনসংগ্রাম
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, শামিম পেশায় একজন সাধারণ অটোরিকশাচালক ছিলেন। সারাদিন রিকশা চালিয়ে কষ্টের উপার্জিত অর্থে তিনি স্ত্রী ও পাঁচ সন্তান নিয়ে সংসার চালাতেন। তাঁর পাঁচ সন্তানের মধ্যে তিনজন মেয়ে ও দুজন ছেলে রয়েছে। সন্তানদের তিনি ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষায় লালন-পালন করছিলেন। তাঁর তিন মেয়ের মধ্যে দুজন পবিত্র কোরআনের হাফেজা। অভাব-অনটনের মাঝেও দ্বীনি পরিবেশ বজায় রাখা এই মানুষটি এলাকায় অত্যন্ত ধর্মপরায়ণ, সদালাপী ও ভদ্র হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
দীর্ঘদিনের অসুস্থতা ও চিকিৎসাগত তথ্য
পরিবার জানায়, শামিম হাওলাদার বেশ কিছুদিন ধরে হৃদ্রোগজনিত (হার্ট ডিজিজ) সমস্যায় ভুগছিলেন। তবে হঠাৎ এই মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট চিকিৎসাগত কারণ সম্পর্কে কোনো চিকিৎসকের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েই তিনি নামাজের মধ্যেই ইন্তেকাল করেছেন।
দাফন সম্পন্ন ও এলাকায় শোক
পবিত্র অবস্থায় এবং নামাজরত অবস্থায় এমন আকস্মিক মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে পাথরঘাটাজুড়ে শোকের মাতম শুরু হয়। পরদিন শনিবার (২৪ অক্টোবর ২০২৬) সকালে স্থানীয় মাঠে তাঁর জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে তাঁকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
একজন সাধারণ কর্মজীবী মানুষ হয়েও ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলা এবং শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত আল্লাহর ইবাদতে রত থাকার এই ঘটনাটি স্থানীয়দের মনে গভীর দাগ কেটেছে। তাঁর এই আকস্মিক মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে।









