অনলাইন ডেস্ক: আস্থা নিউজ
বেসরকারি এমপিওভুক্ত স্কুল ও কলেজের শিক্ষকদের বহুল প্রতীক্ষিত বদলি প্রক্রিয়া শুরু হতে যাচ্ছে। আগামী শুক্রবার (২১ আগস্ট) থেকে অনলাইনে এই বদলির আবেদন গ্রহণ শুরু হবে। আবেদন কার্যক্রম চলবে আগামী ২৭ আগস্ট পর্যন্ত।
সম্প্রতি মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) থেকে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। মাউশির পরিচালক (মাধ্যমিক) অধ্যাপক মো. সাখাওয়াত হোসেন খান বিজ্ঞপ্তিতে স্বাক্ষর করেন।
অনলাইন আবেদন ও পছন্দক্রম
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আগ্রহী শিক্ষকেরা অনলাইন সফটওয়্যারের মাধ্যমে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন সম্পন্ন করতে পারবেন।
- পছন্দক্রম: একজন আবেদনকারী সর্বোচ্চ তিনটি প্রতিষ্ঠানে বদলির জন্য পছন্দক্রম (Preference) উল্লেখ করার সুযোগ পাবেন।
- আবেদন যাচাই: বদলি নীতিমালা অনুযায়ী স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে আবেদনকারীর তথ্য বিশ্লেষণ ও যাচাই করা হবে। পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে কর্তৃপক্ষ চূড়ান্ত বদলির আদেশ জারি করবে।
কর্মস্থল নির্বাচন ও সুযোগ-সুবিধা
- নিজ জেলা ও বিভাগ: শিক্ষকেরা নিজ জেলায় বদলির আবেদন করতে পারবেন। যদি নিজ জেলায় কাঙ্ক্ষিত শূন্যপদ না থাকে, তবে নিজ বিভাগের যেকোনো জেলার শূন্যপদের বিপরীতে আবেদন করা যাবে।
- স্বামী/স্ত্রীর কর্মস্থল: নারী ও পুরুষ উভয় শিক্ষকের ক্ষেত্রে স্বামী বা স্ত্রীর নিজ জেলায় বদলির সুযোগ রাখা হয়েছে। এছাড়া স্বামী বা স্ত্রী যদি সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত কিংবা অন্য কোনো এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থাকেন, তবে তাঁর কর্মস্থলের জেলাতেও বদলির আবেদন করা যাবে।
আবেদনের যোগ্যতা ও গুরুত্বপূর্ণ শর্তাবলি
১. নূন্যতম চাকরি: বর্তমান কর্মস্থলে অন্তত ২ বছর চাকরি পূর্ণ হলে তবেই একজন শিক্ষক বদলির আবেদন করতে পারবেন। ২. পুনরায় আবেদন: নতুন কর্মস্থলে যোগদানের পর পুনরায় বদলির আবেদন করতে হলে সেখানে কমপক্ষে আরও ২ বছর দায়িত্ব পালন করতে হবে। ৩. যাঁরা আবেদনের অযোগ্য: কোনো শিক্ষকের এমপিও (MPO) স্থগিত/বন্ধ থাকলে, চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত হলে অথবা বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা থাকলে তিনি বদলির অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন। ৪. ভুল তথ্য: অসম্পূর্ণ, ভুল বা মিথ্যা তথ্য দিয়ে আবেদন করা হলে তা সরাসরি বাতিল হবে। সফটওয়্যারে তথ্যে ভুল থাকলে শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান প্রধান ব্যক্তিগতভাবে দায়ী থাকবেন।
অবমুক্তি ও যোগদানের সময়সীমা
বদলির আদেশ জারির পর কালক্ষেপণ করার কোনো সুযোগ থাকছে না:
- আদেশ জারির ১০ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান প্রধানকে শিক্ষককে অবমুক্ত (Release) করতে হবে।
- অবমুক্ত হওয়ার পরবর্তী ১০ দিনের মধ্যে শিক্ষককে নতুন কর্মস্থলে যোগদান করতে হবে।
সংশোধিত নীতিমালার প্রেক্ষাপট
২০২৬ সালে প্রণীত সংশোধিত নীতিমালার আলোকেই শিক্ষকদের এই আবেদনসমূহ যাচাই-বাছাই করা হবে। গত ৬ মে জারি করা নতুন নীতিমালায় বদলির পরিধি অনেক বিস্তৃত করা হয়েছে—
বিস্তৃত সুযোগ: পূর্বে কেবল নির্দিষ্ট কিছু পদে সীমিত সুযোগ থাকলেও, নতুন নীতিমালায় সহকারী শিক্ষক, প্রভাষক ও সহকারী অধ্যাপকদের পাশাপাশি অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, প্রদর্শক এবং ট্রেড ইন্সট্রাক্টরদেরও সমপর্যায়ের প্রতিষ্ঠানে বদলির সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, এটি বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জন্য জারি করা চতুর্থ নীতিমালা। এর আগে পারস্পরিক (Mutual) বদলি এবং এনটিআরসিএ (NTRCA) সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকদের জন্য আলাদা নীতিমালা থাকলেও নানা আইনি ও প্রশাসনিক সীমাবদ্ধতা ছিল। নতুন এই সমন্বিত সফটওয়্যারভিত্তিক পদ্ধতির ফলে হাজার হাজার শিক্ষকের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি কমবে এবং বদলি প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আসবে বলে আশা করছে মাউশি।









