গণবিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (গকসু) সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) সামিউল হাসান শোভনের একটি ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয় অঙ্গন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। পোস্টটিতে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে সংহিস আচরণের ইঙ্গিত ও উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ায় সাধারণ শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন মহলে বিতর্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে নিজ ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট থেকে করা পোস্টে সামিউল হাসান শোভন লেখেন: “সংসদে বিএনপির সাথে জামায়াতের আর ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের সাথে শিবিরের এই কুসুম কুসুম প্রেম জাস্ট একটা ফাজলামি। হে শিবির, ওরা আপনাদের চোখ তুলতে পারে, গোড়ালি কাটতে পারে, মাথা ফাটাতে পারে। আর আপনারা সারা জীবন খালি মার খেয়ে প্রতিবাদ মিছিলই করে গেলেন। ৯০-এর দশকে শিবিরের উপর পায়ের রগ কাটার মিথ্যা অপবাদ আছে, সন্ত্রাস রুখে দিতে প্রয়োজনে ২/১টা রগ কেটে ইতিহাস তৈরি করুন। আপনারা এত আইনের প্রতি শ্রদ্ধা দেখিয়ে কী করবেন, তারা তো ঠিকই আইনকে মিডিল ফিঙ্গার দেখাচ্ছে প্রতিনিয়ত।”
পোস্টটির শেষাংশে তিনি বিতর্কিত ছাত্রনেতা নাসিরের নাম উল্লেখ করে লেখেন: “তোমাকে আবার জেগে উঠতে হবে, হে শিবির_ক্যাডার_নাসির, দেখো পুনরায় নব্যসন্ত্রাসের উত্থান হয়েছে।”
পোস্টটি প্রকাশের পর থেকেই নেটদুনিয়ায় বইছে সমালোচনার ঝড়। একজন দায়িত্বশীল জনপ্রতিনিধির মুখে প্রকাশ্যে সহিংসতাকে উসকে দেওয়ার মতো বক্তব্যকে অগ্রহণযোগ্য বলে আখ্যায়িত করছেন শিক্ষার্থীরা।
ফেসবুক মন্তব্যের ঘরে ক্ষোভ প্রকাশ করে মো. তানভির লেখেন, “সামিউল, তোমার এমন উত্তেজনামূলক বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানাই।” ঐতিহাসিক অপবাদ নিয়ে প্রশ্ন তুলে রিফাত হোসেন মাহিন ও মো. আবির হোসেন আবির জানতে চান, “তবে কি রগ কাটার ইতিহাস সত্য?” অন্যদিকে, মাহমুদ রাসেল নামে এক ব্যবহারকারী মন্তব্য করেন, “তার মানে শিবির রগ কাটে—এটা সত্য?”
অতিরিক্ত তথ্য ও বিশ্ববিদ্যালয় অঙ্গনের প্রতিক্রিয়া:
- প্রতিনিধির দায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন: গকসুর নির্বাচিত প্রতিনিধির এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। আইন বিভাগের শিক্ষার্থী প্রিন্স সম্রাট মুস্তাকিম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মন্তব্য করেন, একজন ছাত্র সংসদের প্রতিনিধি হিসেবে শোভনের এ ধরনের ভাষা প্রয়োগ চরম অদায়িত্বশীলতার পরিচয় দেয় এবং সাধারণ শিক্ষার্থীরা এটি মেনে নিতে পারে না।
- অন্যান্য প্রতিনিধিদের প্রতিক্রিয়া: ঘটনার পর গকসুর ক্যান্টিন সম্পাদক মনোয়ার হোসেন অন্তরসহ আরও কয়েকজন প্রতিনিধি বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যঙ্গাত্মক ও সমালোচনামূলক প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেন।
- শোভনের ব্যাখ্যা: বিতর্ক মারাত্মক রূপ ধারণ করলে শোভন বিষয়টি স্পষ্ট করে জানান, উক্ত বক্তব্যটি সম্পূর্ণই তার ‘ব্যক্তিগত মতামত’। এর সঙ্গে গণবিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বা গকসুর কোনো প্রাতিষ্ঠানিক সম্পর্ক বা সম্পৃক্ততা নেই।
ক্যাম্পাস সংশ্লিষ্টদের মতে, ছাত্র রাজনীতির অস্থিতিশীল পরিবেশে এ ধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য শিক্ষার্থীদের মধ্যে তৈরি করতে পারে নিরাপত্তাহীনতা ও অপ্রীতিকর সহিংসতা।









