অনলাইন ডেস্ক : আস্থা নিউজ
রাজধানীর শাহবাগে নির্মিত ‘জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে’ শ্রদ্ধানিবেদন করে জুলাই সনদের পূর্ণ বাস্তবায়ন এবং গণঅভ্যুত্থানের চেতনায় গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে সরকার।
বুধবার (৫ আগস্ট) সকালে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে এ কথা জানান মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান।
সংবাদ সম্মেলনে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী বলেন, “জুলাই সনদ বাস্তবায়নের মাধ্যমে আগামীর বাংলাদেশকে বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে। ৫ আগস্ট কেবল শোক প্রকাশের দিন নয়; এটি স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদের শৃঙ্খলমুক্তির বিজয় এবং নতুন এক প্রত্যয়ের দিন।” দীর্ঘ ১৮ বছরের রাজপথের আন্দোলন, সংগ্রাম ও অগণিত রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এই গণঅভ্যুত্থানের সাফল্যকে নতুন বাংলাদেশ গড়ার চালিকাশক্তি হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
রাজনীতিতে ঐক্যের গুরুত্ব তুলে ধরে আহমেদ আযম খান দীর্ঘদিন স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে যুক্ত থাকা বিএনপিসহ দেশের রাজনৈতিক দলগুলোকে বিভক্তি এড়িয়ে সুসংগঠিত থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, দেশ আজ পরিবর্তনের ধারায় প্রবেশ করেছে এবং সরকার জুলাই অভ্যুত্থানের সার্বিক আকাঙ্ক্ষা রক্ষায় দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। এ সময় তিনি জুলাই আন্দোলনে প্রাণ উৎসর্গকারী শহীদদের আত্মার মাগফিরাত এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন বলেন, “জুলাইয়ের শহীদ ও অকুতোভয় বীর যোদ্ধাদের অবদান সরকার কখনই বিস্মৃত হবে না।” তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, দেশকে নিয়ে যেকোনো ধরনের ষড়যন্ত্র বা অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চক্রান্ত জনগণকে সঙ্গে নিয়ে কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে।
অতিরিক্ত পটভূমি ও প্রাসঙ্গিক তথ্য:
- জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও জুলাই সনদ: ২০২৪ সালের শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের অভূতপূর্ব আন্দোলনের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদের পতন ঘটে। আন্দোলনে প্রাণ দেওয়া শত শত শহীদদের স্মৃতি রক্ষার্থে ও দেশের শাসনব্যবস্থায় কাঠামোগত সংস্কার নিশ্চিত করতে পরবর্তীতে রূপরেখা ও ‘জুলাই সনদ’ গৃহীত হয়।
- স্মৃতিস্তম্ভের গুরুত্ব: শাহবাগে স্থাপিত জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভটি তরুণ সমাজের আত্মত্যাগ ও গণতান্ত্রিক অধিকার পুনরুদ্ধারের সংগ্রামের এক দৃশ্যমান প্রতীক হিসেবে চিহ্নিত। দিবসটি উপলক্ষে দেশের সার্বিক সার্বিক রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির জন্য জাতীয় ঐক্যের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হচ্ছে।









