অনলাইন ডেস্ক:আস্থা নিউজ
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি গঠনের কার্যক্রম প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছাল। দলীয় উচ্চপর্যায়ের দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চূড়ান্ত অনুমোদন ও সবুজ সংকেতের অপেক্ষায় রয়েছে এই খসড়া কমিটি। সব প্রক্রিয়াই প্রায় শেষ, তাই যেকোনো মুহূর্তে নতুন কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নাম ঘোষণা হতে পারে।
নতুন কমিটি প্রকাশের মধ্য দিয়েই অবসান ঘটতে যাচ্ছে মো. রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও নাছির উদ্দীন নাছির নেতৃত্বাধীন বর্তমান কমিটির আনুষ্ঠানিক অধ্যায়। এর মধ্য দিয়ে বিগত দিনে রেকর্ডসংখ্যক সাংগঠনিক ইউনিট পুনর্গঠন ও আন্দোলন-সংগ্রামে নেতৃত্ব দেওয়া এই ব্যাচ বিদায় নিচ্ছে এবং সংগঠনের দায়িত্ব উঠতে যাচ্ছে নতুন প্রজন্মের হাতে।
তারেক রহমানের সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) রাতে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ছাত্রদলের বিদায়ী শীর্ষ পাঁচ নেতা। বৈঠকে সম্প্রতি বৈষম্যবিরোধী গণঅভ্যুত্থান ও স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে ছাত্রদলের সাহসী ভূমিকা ও বীরত্বপূর্ণ লড়াইয়ের ভূয়সী প্রশংসা করেন বিএনপির চেয়ারম্যান।
বৈঠক সূত্রে জানা যায়, বিদায়ী নেতাদের উদ্দেশ্যে তারেক রহমান বলেন,
“বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনে তোমরা অসামান্য আন্দোলন ও সংগ্রাম করেছ। রাজপথের এই লড়াই ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তবে নিয়মানুযায়ী এখন ছাত্রদলে তোমাদের সময় শেষ—এখন সময় এসেছে নতুনদের সুযোগ করে দেওয়ার এবং মূল দলের রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার।”
তিনি ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক জীবনে পেশাদারত্ব, কঠোর শৃঙ্খলা ও ত্যাগী মানসিকতা বজায় রাখার দিকনির্দেশনা দেন। জবাবে বিদায়ী নেতারাও হাইকমান্ডের এই সিদ্ধান্তকে বিনম্র শ্রদ্ধায় গ্রহণ করে মূল দল বিএনপি বা সহযোগী সংগঠনে যে কোনো দায়িত্ব পালনে নিজেদের দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
‘জীবনের শ্রেষ্ঠ অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি’: সামাজিক মাধ্যমে রাকিবের বিদায় বার্তা
বৈঠক শেষে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি মো. রাকিবুল ইসলাম রাকিব তার ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি বিদায়ী বার্তা দেন। অনুভূতি প্রকাশ করে তিনি লেখেন, “আলহামদুলিল্লাহ! মহান রাব্বুল আলামিনের কাছে লাখো কোটি শুকরিয়া। অনেক বেশি সম্মান ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে জীবনের শ্রেষ্ঠ অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি ঘটতে চলেছে।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ৫ আগস্ট-পরবর্তী বাস্তবতায় দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে অস্থিতিশীল পরিবেশ সামাল দেওয়া এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সাইবার বুলিং উপেক্ষা করে দলকে নেতৃত্ব দিতে হয়েছে। নিজের ভুলত্রুটির জন্য ক্ষমা চেয়ে তিনি বলেন, “একটা নতুন জীবন শুরু করতে চাই। নিজেকে আরও বেশি পরিশুদ্ধ, মানবিক ও সৎ মানুষ হিসেবে গড়তে চাই।” একই সাথে তিনি ছাত্রদলের আসন্ন নতুন কমিটিকে সবাই সাদরে গ্রহণ করবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
দুই বছরের মেয়াদের হিসাব ও নতুনদের সমীকরণ
২০২৪ সালের ১ মার্চ রাকিবুল ইসলাম রাকিবকে সভাপতি এবং নাছির উদ্দীন নাছিরকে সাধারণ সম্পাদক করে ছাত্রদলের আংশিক কেন্দ্রীয় কমিটি দেওয়া হয়। পরবর্তীতে একই বছরের ১৫ জুন ২৬০ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন করা হয়। ছাত্রদলের খসড়া গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কেন্দ্রীয় সংসদের মেয়াদ দুই বছর। সেই হিসেবে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ায় নতুন নেতৃত্বের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হয়।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এবার ছাত্রদলের নেতৃত্বে নিয়ে আসতে রাজপথের পরীক্ষিত ভূমিকা, পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি, নিয়মিত ছাত্রত্ব এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে গ্রহণযোগ্যতাকে মূল মাপকাঠি ধরা হচ্ছে। পাশাপাশি নতুন কমিটিতে নারী নেতৃত্বের উপস্থিতি বৃদ্ধি এবং ক্যাম্পাসগুলোতে শিক্ষার্থীকেন্দ্রিক রাজনীতি ফিরিয়ে আনার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে হাইকমান্ড।
শীর্ষ পদে আলোচনায় যারা
ছাত্রদলের নতুন কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোর দৌড়ে বেশ কয়েকজন পরিচিত ও ত্যাগী মুখ জোর আলোচনায় রয়েছেন। সম্ভাব্য শীর্ষ পদপ্রত্যাশীদের তালিকায় রয়েছেন:
- আবু আফসান মোহাম্মদ ইয়াহইয়া (সিনিয়র সহ-সভাপতি)
- ইজ্জাজুল কবির রুয়েল (সহ-সভাপতি)
- ডা. তৌহিদুর রহমান আউয়াল (সহ-সভাপতি)
- আমান উল্লাহ আমান (সাংগঠনিক সম্পাদক)
- মমিনুল ইসলাম জিসান (১ নম্বর যুগ্ম সম্পাদক)
- শরীফ প্রধান শুভ (প্রচার সম্পাদক)
- গণেশ চন্দ্র রায় সাহস (সভাপতি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল)
- মো. মোস্তাফিজুর রহমান (যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক)
- বোরহান উদ্দিন ইশরাক (সদ্য সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক, ঢাকা কলেজ ছাত্রদল)
তবে সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে কার কাঁধে অর্পিত হচ্ছে ঐতিহ্যবাহী এই ছাত্রসংগঠনের নেতৃত্বের ব্যাটন, তা সম্পূর্ণ নির্ভর করছে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের চূড়ান্ত অনুমোদনের ওপর।









