নিজস্ব প্রতিবেদক | [ আস্থা নিউজ ]
বান্দরবানের থানচি উপজেলার দুর্গম তিন্দু ইউনিয়নের ‘বড়পাথর’ এলাকায় সাঙ্গু নদে নৌকা ডুবে জাওয়াদ-উল ইসলাম মাহিয়ান (২৪) নামের এক পর্যটক নিখোঁজ হয়েছেন। শুক্রবার বিকেলে ভয়াবহ এ দুর্ঘটনার পর শনিবার সকাল পর্যন্ত তাঁর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। উদ্ধার অভিযানে গতি আনতে চট্টগ্রাম থেকে ফায়ার সার্ভিসের অভিজ্ঞ ডুবুরি দলকে তলব করা হয়েছে।
নিখোঁজ পর্যটক মাহিয়ান ময়মনসিংহ সদর উপজেলার মাসকান্দা গ্রামের হেলাল উদ্দিনের ছেলে।
যেভাবে ঘটল দুর্ঘটনা: স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ১৩ জন পর্যটকের একটি দল আলীকদমের দুর্গম পাহাড়ি পথ ধরে থানচির তিন্দু এলাকায় আসেন। শুক্রবার বিকেল ৫টার দিকে তাঁরা দুটি ইঞ্জিনচালিত নৌকায় করে তিন্দুর পর্যটন কেন্দ্র ‘বড়পাথর’ এলাকায় ঘুরতে বের হন। পাহাড়ি ঢল ও বৃষ্টির কারণে সাঙ্গু নদ ছিল অত্যন্ত খরস্রোতা।
ঘোরাঘুরির একপর্যায়ে প্রবল স্রোতের তোড়ে পর্যটকবাহী একটি নৌকা উল্টে যায়। নৌকায় থাকা অন্য পর্যটকেরা সাঁতরে কিংবা স্থানীয়দের সহায়তায় তীরে উঠতে সক্ষম হলেও তীব্র স্রোতে ভেসে যান মাহিয়ান।
উদ্ধার তৎপরতা ও স্থানীয় প্রশাসন: ঘটনার পরপরই ফায়ার সার্ভিসের থানচি স্টেশনের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় প্রাথমিক তল্লাশি অভিযান শুরু করে। তবে নদের গভীরতা ও প্রমত্তা স্রোতের কারণে নিখোঁজ পর্যটকের সন্ধান মেলেনি।
থানচি ফায়ার সার্ভিস স্টেশন কর্মকর্তা রহিদুর রহমান জানান, “নদীর প্রবল স্রোতের কারণে উদ্ধার কাজ ব্যাহত হচ্ছে। নিখোঁজ পর্যটককে উদ্ধারে আমরা চট্টগ্রামের ডুবুরি দলকে খবর দিয়েছি। ডুবুরি দল পৌঁছালে সাঙ্গু নদে নতুন করে তল্লাশি অভিযান চালানো হবে।”
থানচি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কানন সরকার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, হ্যাবল ত্রিপুরা নামের একজন স্থানীয় গাইড নিয়ে দলটি আলীকদম থেকে তিন্দুতে প্রবেশ করেছিল। পর্যটকেরা থানচি সদর হয়ে না যাওয়ায় শুরুতেই তাঁদের বিস্তারিত তথ্য প্রশাসনের কাছে ছিল না। তাছাড়া তিন্দুর ওই দুর্গম অঞ্চলে মোবাইল নেটওয়ার্ক সুবিধা না থাকায় উদ্ধারকর্মীদের সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করতে তীব্র বেগ পেতে হচ্ছে।
পাহাড়ি নদী ভ্রমণে সতর্কবার্তা: বর্ষা ও পরবর্তী সময়ে পাহাড়ি এলাকার নদ-নদীগুলো অত্যন্ত উত্তাল ও ঝুঁকিপূর্ণ থাকে। বিশেষ করে তিন্দুর বড়পাথর এলাকাটি বিশাল সব পাথরের চাঁই ও আন্ডার কারেন্টের (তলদেশের তীব্র স্রোত) জন্য পরিচিত। স্থানীয় প্রশাসন থেকে বারবার পর্যটকদের নিরাপত্তা লাইফ জ্যাকেট ব্যবহার করা এবং স্থানীয় প্রশাসনকে অবহিত করে গাইডসহ ভ্রমণের অনুরোধ জানানো হলেও অনেকে তা অমান্য করছেন, যা প্রায়শই এ ধরনের মর্মান্তিক দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
উদ্ধার অভিযানের আপডেট পেতে [ আস্থা নিউজ ]-এর সঙ্গেই থাকুন।









