নিজস্ব প্রতিবেদক | [আস্থা নিউজ ]
চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় মহাসড়ক পার হওয়ার সময় পরপর দুটি মোটরসাইকেলের বেপরোয়া ধাক্কায় গুরুতর আহত মো. আলমগীর (৫৬) নামে এক হোটেল ব্যবসায়ী মারা গেছেন। শুক্রবার রাত ১১টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
এর আগে একই দিন রাত ৯টার দিকে লোহাগাড়া সদর ইউনিয়নের সাউন্ড হেলথ হাসপাতালের নতুন ভবনের সামনে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে এই মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনাটি ঘটে।
নিহত মো. আলমগীর উপজেলার আমিরাবাদ ইউনিয়নের তালুকদার পাড়া এলাকার বাসিন্দা। দুর্ঘটনাস্থল ও হাসপাতালের অদূরেই তাঁর একটি ভাতের হোটেল রয়েছে।
যেভাবে ঘটল দুর্ঘটনা: স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সন্ধ্যায় অসুস্থ স্ত্রী কমরুন্নেছাকে চিকিৎসার জন্য সাউন্ড হেলথ হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলেন আলমগীর। রাত ৯টার দিকে স্ত্রীকে হাসপাতালে রেখে তিনি এশার নামাজ আদায় করতে পাশের মসজিদে যান। নামাজ শেষে হাসপাতালে ফিরতে মহাসড়ক পার হওয়ার সময় দ্রুতগতির দুটি মোটরসাইকেল পরপর তাঁকে প্রচণ্ড জোরে ধাক্কা দিয়ে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।
মোটরসাইকেলের ধাক্কায় তিনি সড়কে ছিটকে পড়ে মাথায় ও শরীরে গুরুতর আঘাত পান। স্থানীয়রা তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে তাৎক্ষণিক সাউন্ড হেলথ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তাঁর অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা তাঁকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চমেক হাসপাতালে প্রেরণ করেন। পরে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
আইনগত ব্যবস্থা ও বর্তমান পরিস্থিতি: খবর পেয়ে দোহাজারী হাইওয়ে থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। দোহাজারী হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রুহুল আমিন জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দুর্ঘটনায় জড়িত একটি মোটরসাইকেল জব্দ করেছে। তবে এর চালক পালিয়ে যাওয়ায় তাকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
তিনি আরো জানান, নিহতের পরিবারের আবেদনের ভিত্তিতে ও কোনো অভিযোগ না থাকায় বিনা ময়নাতদন্তে লাশ দাফনের জন্য স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে ঘাতক মোটরসাইকেল চালককে শনাক্ত ও আটক করতে আইনগত প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।
মহাসড়কে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ও উদ্বেগ: এদিকে ব্যস্ততম চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের লোহাগাড়া অংশে প্রতিনিয়ত অনিয়ন্ত্রিত গতিতে মোটরসাইকেল ও যানবাহন চলাচলের কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। বিশেষ করে হাসপাতাল ও জনবহুল এলাকায় পথচারী পারাপারের জন্য পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং বেপরোয়া গতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশি নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
সর্বশেষ পরিস্থিতির আপডেট পেতে [আস্থা নিউজ]-এর সঙ্গেই থাকুন।









