সোনালি চুলের ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ এখন নারায়ণগঞ্জে! দেখতে খামারে উপচে পড়া ভিড়
অনলাইন ডেস্ক | মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো দেখতে সোনালি চুল আর ব্যতিক্রমী চেহারার একটি মহিষ এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। আগামী ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে নারায়ণগঞ্জের এই ‘অ্যালবিনো’ (জন্মগত জেনেটিক ত্রুটি) জাতের মহিষটি এখন দেশজুড়ে আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। বিরল এই প্রাণীটিকে একনজর দেখতে প্রতিদিন শত শত মানুষ ভিড় করছেন স্থানীয় একটি খামারে।
ট্রাম্পের চুলের সাথে মিল, ওজন ৭০০ কেজি!
জানা গেছে, মার্কিন প্রেসিডেন্টের বাহ্যিক অবয়ব ও চুলের স্টাইলের সঙ্গে মিল থাকায় মহিষটির নাম রাখা হয়েছে ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’। নারায়ণগঞ্জের পাইকপাড়া এলাকার ‘রাবেয়া অ্যাগ্রো ফার্মে’ ঠাঁই পাওয়া এই মহিষটির ওজন প্রায় ৭০০ কেজি।
খামারের মালিক ৩৮ বছর বয়সী জিয়া উদ্দিন মৃধা জানান, তার ছোট ভাই শখের বশে এবং মজা করে মার্কিন প্রেসিডেন্টের চুলের সঙ্গে মিল দেখে এই নামকরণ করেছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে এই নামই মহিষটিকে ব্যাপক পরিচিতি এনে দেয়।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ‘বাংলার ডোনাল্ড ট্রাম্প’
ব্যতিক্রমী এই মহিষের খবর এখন শুধু দেশের ভেতরেই সীমাবদ্ধ নেই, তা জায়গা করে নিয়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও। বার্তা সংস্থা এএফপি, রয়টার্স থেকে শুরু করে ভারতের এনডিটিভি এবং বিভিন্ন পাকিস্তানি ও থাই সংবাদমাধ্যমে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে এই খবরটি প্রকাশ করা হয়েছে।
- এএফপির প্রতিবেদন: সোনালি চুল ও হালকা গোলাপি বর্ণের কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মহিষটি দ্রুত ভাইরাল হয়ে পড়ে।
- এনডিটিভির প্রতিবেদন: শুধু ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ই নয়, এই খামারে থাকা আরেকটি মহিষের নাম রাখা হয়েছে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর নামানুসারে—‘বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু’! যা কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে নেটিজেনদের মধ্যে নতুন কৌতূহল তৈরি করেছে।
থাই ও পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এই মহিষটিকে বাংলাদেশের এক ধরনের ‘সেলিব্রিটি প্রাণী’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে।
ভিআইপি প্রটোকলে মহিষের পরিচর্যা
খামার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ নামের এই মহিষটি স্বভাবগতভাবে বেশ শান্ত ও নমনীয় প্রকৃতির। তবে এর পেছনে খামারের কর্মীদের খাটুনিও কম নয়। এর বিশেষ রূপ ধরে রাখতে দিনে অন্তত চারবার গোসল করানো হয় এবং সোনালি লোম পরিচ্ছন্ন রাখতে আলাদাভাবে বিশেষ পরিচর্যা করা হয়।
বিশেষজ্ঞরা কী বলছেন?
প্রাণিসম্পদ বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি মূলত একটি ‘অ্যালবিনো’ মহিষ। বিরল জেনেটিক বৈশিষ্ট্যের কারণে মেলানিনের অভাবে এই ধরনের মহিষের গায়ের রঙ সাদা-গোলাপি এবং চুল সোনালি বর্ণের হয়ে থাকে।
দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়, খামারে কড়াকড়ি
সরেজমিনে রাবেয়া অ্যাগ্রো ফার্মে গিয়ে দেখা যায়, কোরবানির পশুর হাটের ডামাডোলের মধ্যেও এই ব্যতিক্রমী মহিষটি দেখতেই সবার আগ্রহ বেশি। ঢাকা ও এর চারপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে সব বয়সী মানুষ, বিশেষ করে শিশুরা আসছে ছবি তুলতে ও ভিডিও করতে।
তবে অতিরিক্ত দর্শনার্থীদের ভিড়ে মহিষটি কিছুটা ক্লান্ত হয়ে পড়ায় এবং এর শারীরিক অবস্থার ওপর প্রভাব পড়ায় খামার কর্তৃপক্ষ এখন দর্শনার্থী প্রবেশে কিছুটা নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে। তবুও দূরদূরান্ত থেকে মানুষের আসা থামছে না।
কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে এই ঘটনাটি যেমন বিনোদনের খোরাক জোগাচ্ছে, তেমনি আন্তর্জাতিক মহলেও বাংলাদেশের পশু পালন ও খামার সংস্কৃতির এক ব্যতিক্রমী চিত্র তুলে ধরেছে।









