নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী:
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত এক রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে হিতকরী চিকিৎসক ও ইন্টার্ন চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিয়ে বড় ধরনের শঙ্কা তৈরি হয়েছে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোগীর মৃত্যুর জেরে ওয়ার্ডে ভাঙচুর চালানো এবং কর্তব্যরত চিকিৎসকদের ‘হত্যা করে ঝুলিয়ে রাখার’ মতো মারাত্মক হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে রোগীর স্বজনদের বিরুদ্ধে।
রোববার (৪ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে রামেক হাসপাতালের একটি ওয়ার্ডে এ অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে।
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ
হাসপাতাল ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সড়ক দুর্ঘটনায় (RTA) গুরুতর আহত অবস্থায় এক রোগীকে জরুরিভাবে রামেক হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। রোগীর অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক থাকায় জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাৎক্ষণিকভাবে তাঁর প্রাথমিক চিকিৎসা ও জীবন রক্ষাকারী ব্যবস্থাপনা শুরু করেন।
পরবর্তীতে রোগীর শারীরিক অবস্থা নিবিড়ভাবে মূল্যায়নের জন্য চিকিৎসকেরা এক্স-রে ও সিটি স্ক্যান করানোর পরামর্শ দেন এবং জরুরি ভিত্তিতে রক্তের চাহিদাপত্র দেন। কিন্তু সব চেষ্টার পরও চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোগী মারা যান। রোগীর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে তাঁর সঙ্গে থাকা লোকজন উত্তেজিত হয়ে পড়েন। অভিযোগ রয়েছে, তারা অতর্কিতভাবে ওয়ার্ডের ভেতরে ভাঙচুর চালান এবং কর্তব্যরত ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ওপর চড়াও হন। এমনকি তাদের প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ‘হত্যা করে ঝুলিয়ে রাখার’ কথাও বলেন তারা।
শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ
এই খবর মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়লে রাজশাহী মেডিকেল কলেজের বিভিন্ন ছাত্রাবাস থেকে শিক্ষার্থীরা দ্রুত ছুটে এসে হাসপাতালে উপস্থিত হন। তাঁরা ইন্টার্ন চিকিৎসকদের পাশে দাঁড়ান এবং উদ্ভূত পরিস্থিতি শান্ত করতে ও হাসপাতালে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে জোরালো ভূমিকা পালন করেন। পরবর্তীতে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসে।
চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ
চিকিৎসা দিতে গিয়ে চিকিৎসকদের ওপর এমন চড়াও হওয়া এবং প্রাণনাশের হুমকির ঘটনায় পুরো মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল চত্বরে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। চিকিৎসাসেবা প্রদানে নিয়োজিত চিকিৎসকদের কর্মপরিবেশ ও শারীরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা নিয়ে তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কিংবা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে চিকিৎসাসেবা নিরবচ্ছিন্ন রাখতে এবং হাসপাতালে চিকিৎসক, রোগী ও রোগীর স্বজন—সবার সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল ও চিকিৎসকরা।









