নীলফামারী প্রতিনিধি: আস্থা নিউজ
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করে বলেছেন, ক্ষমতার সংখ্যাগরিষ্ঠতার জেরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মধ্যে নতুন করে একধরনের কর্তৃত্ববাদী মানসিকতা তৈরি হয়েছে। গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে দেশের প্রায় ৫ কোটি মানুষ ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে সমর্থন জানালেও বিএনপি সেই গণভোটের রায়কে উপেক্ষা করছে। এতে জুলাই সনদের মূল চেতনা ও মানুষের প্রত্যাশার বিপরীতে অবস্থান নিয়ে দলটি দেশকে এক নতুন সংঘাতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) সকালে নীলফামারী জেলা শহরের আল হেলাল একাডেমি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত দুই দিনব্যাপী শিক্ষাশিবিরের সমাপনী ও সাংবাদকিদের সাথে মতবিনিময়কালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জেলা জামায়াতের কার্যালয়ে উপজেলা পর্যায়ের কর্মপরিষদ সদস্যদের অংশগ্রহণে এই শিক্ষাশিবিরের আয়োজন করা হয়।
অধ্যাপক গোলাম পরওয়ার তাঁর বক্তব্যে সংবিধান সংস্কার ও রাষ্ট্রীয় কাঠামোর আমূল পরিবর্তনের ওপর জোর দেন। তিনি বলেন:
“বিগত সরকারের আমলে সংবিধানে প্রধানমন্ত্রীর হাতে একচ্ছত্র ও অনিয়ন্ত্রিত ক্ষমতা তুলে দেওয়ায় দেশে একদলীয় শাসনব্যবস্থার জন্ম হয়েছিল। আমরা এমন একটি সংবিধান চাই, যেখানে নতুন করে আর কোনো স্বৈরাচারের সৃষ্টি হবে না। এজন্য সংবিধানের সামান্য সংশোধন নয়, বরং পুরো কাঠামোগত সংস্কার জরুরি। তবে বিএনপি নির্বাচনী ইশতেহারে সংস্কারের কথা বললেও এখন কেবল সামান্য সংশোধনের কথা বলে জনগণকে বিভ্রান্ত করছে।”
তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, দেশ আজ এক অতি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে রয়েছে। এই সময়ে জাতীয় ঐক্য, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং গণআকাঙ্ক্ষাকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেওয়া রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্ব। কিন্তু বিএনপি সেই পথ এড়িয়ে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার পথ বেছে নিচ্ছে। সংঘাতের পথ পরিহার করে সংসদ ও আলোচনার মাধ্যমে রাষ্ট্র সংস্কারের ঐতিহাসিক সুযোগকে কাজে লাগাতে তিনি সব দলের প্রতি আহ্বান জানান।
তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবি
উত্তরবঙ্গের দীর্ঘদিনের দাবির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে জামায়াত নেতা বলেন, “তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন এই অঞ্চলের কোটি মানুষের জীবনের সঙ্গে জড়িত। এটি বাস্তবায়িত হলে উত্তরবঙ্গের কৃষি, অর্থনীতি ও জীবনযাত্রায় অভূতপূর্ব পরিবর্তন আসবে। রাষ্ট্র সংস্কারের পাশাপাশি সরকার ও দলগুলোর উচিত উত্তরাঞ্চলের এই ন্যায্য দাবি দ্রুত বাস্তবে রূপ দেওয়া।”
অনুষ্ঠানে বিশেষ সভাপতির বক্তব্যে নীলফামারী জেলা জামায়াতের আমির ও সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুস সাত্তার বলেন, “সংগঠনের আদর্শ, সততা ও শৃঙ্খলা বজায় রেখে নেতাকর্মীদের জনগণের পাশে দাঁড়াতে হবে। মানুষের আস্থা অর্জনে জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডের কোনো বিকল্প নেই।”
শিক্ষাশিবিরে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নীলফামারী-১ আসনের সংসদ সদস্য মুহাম্মদ আব্দুর রশীদ, নীলফামারী-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা ওবায়দুল্লাহ সালাফি এবং নীলফামারী-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাফেজ আব্দুল মুনতাকিম।
এ ছাড়া জামায়াতের রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চলের দলীয় সদস্য মুহাম্মদ আব্দুর রশীদ, জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির ড. খায়রুল আনাম, জেলা সেক্রেটারি অধ্যাপক আন্তাজুল ইসলাম, জেলা পলিটিক্যাল সেক্রেটারি বীর মুক্তিযোদ্ধা মনিরুজ্জামান মন্টু এবং সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক আনোয়ারুল ইসলামসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।









